শিব উপাসনা : শিবলিঙ্গ : শিবরাত্রি
শিবের উপাসনা। ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী তিথির রাত্রিকে শিবরাত্রি বলা হয়। শিব ঠাকুরের গায়ত্রী মন্ত্র পাঠ করলে শিবের কৃপা পাওয়া যায়।
–ওম তৎ পুরুষায় বিদ্মহে মহাদেবায়
ধীমহি তন্নো রুদ্রঃ প্রচোদয়ৎ
ভক্তের মনোবাঞ্ছা পূরণ করেন দেবাদিদেব মহাদেব। কল্যাণ ও মঙ্গল হয় শিবের কৃপায়। শিবরাত্রির উপবাসে শিব সন্তুষ্ট হয়। অনেকে বলেন, জয় শিবশঙ্কর। কেউ কেউ বলেন, জয় শিবশম্ভু। আবার অনেকে বলেন হরহর মহাদেব। ভোলানাথের কথা অনেকের মুখে শোনা যায়। শিব শব্দের অর্থ আমরা জানি মঙ্গলময়। আর লিঙ্গ শব্দের মানে হল- প্রতীক। দুয়ে মিলে শিবলিঙ্গ শব্দটির অর্থ হল-সর্ব মঙ্গলময় বিশ্ববিধাতার প্রতীক।
শিবলিঙ্গ পরব্রহ্ম পরম সত্যের প্রতীক। “ওম নমঃ শিবায়” মন্ত্র জপ করে শিবের মাথায় জল দেওয়া হয়। পুরাকালের কথা অনুযায়ী উল্লেখ করা যায়,কৈলাশ-শিখরে শিব-পার্বতীর বসবাস। সেই পর্বতের শিখর ছিল সর্বরত্নে অলঙ্কৃত। সেখানে ফুলে-ফলে শোভিত বৃক্ষ। লতা ও গুল্ম দিয়ে পরিবৃত। পারিজাত সহ অন্যান্য পুষ্পের সুগন্ধ । চারদিক অস্পরাদের নৃত্য। আকাশ গঙ্গার তরঙ্গ-নিনাদ। ব্রহ্মার্ষিদের কন্ঠ থেকে বেদধ্বনির উচ্চারণ। প্রচলিত রয়েছে, পার্বতী শিবকে প্রশ্ন করে জানতে চাইলেন, আপনি ধর্ম, অর্থ, কাম ও মোক্ষ-দাতা। কোন ব্রত বা তপস্যায় আপনি সন্তুষ্ট হয়ে থাকেন ?
প্রত্যুত্তরে দেবাদিদেব বললেন, ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী তিথিতে উপবাস করলে আমি অত্যন্ত সন্তুষ্ট হই। পুষ্প-পুজো ও অর্চনায় আমি যতটা সন্তুষ্ট হই তার চেয়ে বেশি সন্তুষ্ট হই শিবরাত্রির উপবাস করলে।

